ভেজাল ওষুধে সয়লাব দেশ ! মোড়ক নকল করে বাজারে ভেজাল ওষুধ (ভিডিও)


ভেজাল ওষুধে সয়লাব গোটা দেশ। কী শহর, কী প্রত্যন্ত গ্রাম সর্বত্রই রোগী আসল ওষুধের মূল্য দিয়ে নকল ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সংসদীয় কমিটির তদন্তে জানা যায়, দেশের ১৯৩টি কোম্পানির মধ্যে ৫৯টিতেই উৎপাদন করা হচ্ছে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ। ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারীরা বাজারের ভালো ব্র্যান্ডের ওষুধের মোড়ক, প্যাকেট ও বোতল নকল করে ওষুধ তৈরি করছে। আর এর মাধ্যমে বছরে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার নকল ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেটরা জানান, ভেজাল ওষুধের মধ্যে আটা, ময়দা, চিনি, বেসন, নিম্নমানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড (ওষুধের কাঁচামাল) ও পানি মেশানো হচ্ছে। অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারির অভাবে গ্রামগঞ্জ, মফস্বলের ফার্মেসিগুলো এখন ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় ওষুধের মার্কেট মিটফোর্ড থেকেই বেশির ভাগ ভেজাল ওষুধ দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ওষুধ পরীক্ষাগারের তথ্য মতে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ পাওয়া গেছে ১২৫টি। ২০০৯ সাল থেকে সংসদীয় কমিটিসহ কয়েকটি তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৫৯টি প্রতিষ্ঠান ভেজাল ওষুধ তৈরিতে জড়িত। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনের সময় দেওয়া হলেও সংসদীয় কমিটি ২৯টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের সুপারিশ করে। তবে আইনি জটিলতার কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কম জনবল দিয়ে ভেজাল ওষুধের আগ্রাসন ঠেকানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. মনির হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মানুষ এখন বেশি টাকা দিয়ে মানহীন ওষুধ খাচ্ছে। রোগীরা মুনাফালোভী বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিগুলোর হাতে জিম্মি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, জিঞ্জিরা, মুগদা, বনশ্রী, মিরপুর ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল ও নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব কারখানা থেকে আটক হওয়াদের কারাদণ্ড হলেও ছাড়া পেয়ে পুরনো ব্যবসায় ফিরে যান। ওষুধ মালিক সমিতির মতে, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের গাফিলতির কারণে ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। পাইকারি মূল্য কম হওয়ায় কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী নিুমানের ওষুধ বিক্রি করছেন। তারা ডাক্তারের পরামর্শপত্রে যে ওষুধের নাম লেখা থাকে তা না দিয়ে রোগীকে একই ওষুধ বলে নিুমানের ওষুধ গছিয়ে দিচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক জানান, ভেজাল ও নকল ওষুধ মূলত বিক্রি করছে অনুমোদনহীন কিছু কোম্পানি। এর সঙ্গে যে ওষুধগুলোর বিক্রি বেশি অসাধু ব্যবসায়ীরা সে ওষুধের প্রয়োজনীয় ও নির্দিষ্ট কাঁচামালের পরিবর্তে নিুমানের পদার্থ মিশিয়ে আসল ওষুধের প্যাকেট বা নাম দিয়ে নকল ওষুধ তৈরি করছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা মুনাফালোভী চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ ধরনের অপকর্ম করছেন। জানা যায়, ভেজাল ও নকল ওষুধের মধ্যে বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে এমন ধরনের বিভিন্ন প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন ও অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের পরিমাণ বেশি। এদিকে নকল ও ভেজাল ওষুধে বাজার সয়লাব হওয়ায় রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি আসল ওষুধের দামে নকল ওষুধ কিনে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
নকল ওষুধ : বিক্রি হওয়া ইনজেকশনের মধ্যে নকল হচ্ছে হাইড্রোকরটসিন, মিথাইল প্রডেনিসোল গ্রুপের ইনজেকশন। ময়দা দিয়ে নকল হচ্ছে যক্ষ্মায় ব্যবহৃত রিফিমপিসিন ট্যাবলেট। কিডনি ও ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইপরেক্স ইনজেকশনেরও ভেজাল তৈরি হচ্ছে। দেশে সোয়া দুই লাখের বেশি ওষুধের দোকান থাকলেও রেজিস্টার্ড ৬০ হাজার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নকল ওষুধ। র‌্যাবের অভিযানে মিটফোর্ড বাবুবাজারে আইসিডিডিআরবির নকল রাইস স্যালাইন তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। এখানে অসাধু চক্র ফার্মা গ্রেড কাঁচামালের পরিবর্তে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড কাঁচামাল ব্যবহার করত। সাধারণত নিচুমানের ওষুধের মূল্য ভালো ব্র্যান্ডের ওষুধের মূল্যের প্রায় সমান কিন্তু বাজারে চালানোর জন্য পাইকারি মূল্য কম ধরা হয়। যেমন আসল গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ অমিপ্রাজলের মূল্য ৪০০ টাকার বেশি হলেও নকল অমিপ্রাজলের পাইকারি মূল্য ৭০ টাকার বেশি। ব্যথার ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ১০০ টাকা হলেও নকল ওষুধের দাম ১৭ টাকা। এ ছাড়া নকল ওষুধের মধ্যে আরও তৈরি হচ্ছে হরমোলিড বায়োজেন, রেনিটিডিন, মাই গ্লোড, সাসটন নামের বিভিন্ন ওষুধ। এসব কারখানায় কোনো দক্ষ ক্যামিস্ট বা ফার্মাসিস্ট দ্বারা ওষুধ তৈরি হয় না। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সূত্র জানায়, ভেজাল ওষুধের মধ্যে আটা, ময়দা, চিনি, বেসন, পানি মিশিয়ে ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, নকল বা ভেজাল ওষুধ সেবনে যেমন রোগের প্রতিকার হয় না, তেমনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারও আশঙ্কা থাকে।
ভেজাল ওষুধে সয়লাব গ্রামগঞ্জ : এদিকে ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামগঞ্জসহ মফস্বলের বাজার। এর মূল কারণ পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারি নেই। ভেজাল ওষুধ তৈরিকারী সংঘবদ্ধ চক্র এ ভেজাল ওষুধগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থায় প্রয়োজন একটি যুগোপযোগী ওষুধনীতি। জানা যায়, সরকারি হাসপাতালগুলোয় বিনামূল্যের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে খোলাবাজারে। ঢাকাসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর কর্মচারীরা হাসপাতালের ওষুধ ফার্মেসিতে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন এমন অভিযোগ বেশ পুরনো। অনেক সময় মফস্বলের ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধও বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে আশঙ্কার বিষয়, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া ওষুধের পেটেন্ট (স্বত্ব) অন্য দেশের। ২০১৫ সালের মধ্যে এই পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আর সে সময় রোগীদের বিদেশি আমদানিকৃত ওষুধ বর্তমান বাজারমূল্য থেকে কয়েক গুণ বেশি দামে কিনতে হবে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, নকল ওষুধ তৈরির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। - ঝবব সড়ৎব ধঃ: যঃঃঢ়://িি.িনফ-ঢ়ৎধঃরফরহ.পড়স/ষধংঃ-ঢ়ধমব/২০১৪/০৫/২৪/৭৭২০#ংঃযধংয.ঔঐঐািঈৎঢ.ফঢ়ঁভভেজাল ওষুধে সয়লাব গোটা দেশ। কী শহর, কী প্রত্যন্ত গ্রাম সর্বত্রই রোগী আসল ওষুধের মূল্য দিয়ে নকল ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সংসদীয় কমিটির তদন্তে জানা যায়, দেশের ১৯৩টি কোম্পানির মধ্যে ৫৯টিতেই উৎপাদন করা হচ্ছে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ। ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারীরা বাজারের ভালো ব্র্যান্ডের ওষুধের মোড়ক, প্যাকেট ও বোতল নকল করে ওষুধ তৈরি করছে। আর এর মাধ্যমে বছরে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার নকল ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেটরা জানান, ভেজাল ওষুধের মধ্যে আটা, ময়দা, চিনি, বেসন, নিম্নমানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড (ওষুধের কাঁচামাল) ও পানি মেশানো হচ্ছে। অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারির অভাবে গ্রামগঞ্জ, মফস্বলের ফার্মেসিগুলো এখন ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় ওষুধের মার্কেট মিটফোর্ড থেকেই বেশির ভাগ ভেজাল ওষুধ দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ওষুধ পরীক্ষাগারের তথ্য মতে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ পাওয়া গেছে ১২৫টি। ২০০৯ সাল থেকে সংসদীয় কমিটিসহ কয়েকটি তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৫৯টি প্রতিষ্ঠান ভেজাল ওষুধ তৈরিতে জড়িত। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনের সময় দেওয়া হলেও সংসদীয় কমিটি ২৯টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের সুপারিশ করে। তবে আইনি জটিলতার কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কম জনবল দিয়ে ভেজাল ওষুধের আগ্রাসন ঠেকানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. মনির হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মানুষ এখন বেশি টাকা দিয়ে মানহীন ওষুধ খাচ্ছে। রোগীরা মুনাফালোভী বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিগুলোর হাতে জিম্মি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, জিঞ্জিরা, মুগদা, বনশ্রী, মিরপুর ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল ও নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব কারখানা থেকে আটক হওয়াদের কারাদণ্ড হলেও ছাড়া পেয়ে পুরনো ব্যবসায় ফিরে যান। ওষুধ মালিক সমিতির মতে, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের গাফিলতির কারণে ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। পাইকারি মূল্য কম হওয়ায় কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী নিুমানের ওষুধ বিক্রি করছেন। তারা ডাক্তারের পরামর্শপত্রে যে ওষুধের নাম লেখা থাকে তা না দিয়ে রোগীকে একই ওষুধ বলে নিুমানের ওষুধ গছিয়ে দিচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক জানান, ভেজাল ও নকল ওষুধ মূলত বিক্রি করছে অনুমোদনহীন কিছু কোম্পানি। এর সঙ্গে যে ওষুধগুলোর বিক্রি বেশি অসাধু ব্যবসায়ীরা সে ওষুধের প্রয়োজনীয় ও নির্দিষ্ট কাঁচামালের পরিবর্তে নিুমানের পদার্থ মিশিয়ে আসল ওষুধের প্যাকেট বা নাম দিয়ে নকল ওষুধ তৈরি করছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা মুনাফালোভী চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ ধরনের অপকর্ম করছেন। জানা যায়, ভেজাল ও নকল ওষুধের মধ্যে বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে এমন ধরনের বিভিন্ন প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন ও অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের পরিমাণ বেশি। এদিকে নকল ও ভেজাল ওষুধে বাজার সয়লাব হওয়ায় রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি আসল ওষুধের দামে নকল ওষুধ কিনে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
নকল ওষুধ : বিক্রি হওয়া ইনজেকশনের মধ্যে নকল হচ্ছে হাইড্রোকরটসিন, মিথাইল প্রডেনিসোল গ্রুপের ইনজেকশন। ময়দা দিয়ে নকল হচ্ছে যক্ষ্মায় ব্যবহৃত রিফিমপিসিন ট্যাবলেট। কিডনি ও ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইপরেক্স ইনজেকশনেরও ভেজাল তৈরি হচ্ছে। দেশে সোয়া দুই লাখের বেশি ওষুধের দোকান থাকলেও রেজিস্টার্ড ৬০ হাজার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নকল ওষুধ। র‌্যাবের অভিযানে মিটফোর্ড বাবুবাজারে আইসিডিডিআরবির নকল রাইস স্যালাইন তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। এখানে অসাধু চক্র ফার্মা গ্রেড কাঁচামালের পরিবর্তে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড কাঁচামাল ব্যবহার করত। সাধারণত নিচুমানের ওষুধের মূল্য ভালো ব্র্যান্ডের ওষুধের মূল্যের প্রায় সমান কিন্তু বাজারে চালানোর জন্য পাইকারি মূল্য কম ধরা হয়। যেমন আসল গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ অমিপ্রাজলের মূল্য ৪০০ টাকার বেশি হলেও নকল অমিপ্রাজলের পাইকারি মূল্য ৭০ টাকার বেশি। ব্যথার ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ১০০ টাকা হলেও নকল ওষুধের দাম ১৭ টাকা। এ ছাড়া নকল ওষুধের মধ্যে আরও তৈরি হচ্ছে হরমোলিড বায়োজেন, রেনিটিডিন, মাই গ্লোড, সাসটন নামের বিভিন্ন ওষুধ। এসব কারখানায় কোনো দক্ষ ক্যামিস্ট বা ফার্মাসিস্ট দ্বারা ওষুধ তৈরি হয় না। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সূত্র জানায়, ভেজাল ওষুধের মধ্যে আটা, ময়দা, চিনি, বেসন, পানি মিশিয়ে ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, নকল বা ভেজাল ওষুধ সেবনে যেমন রোগের প্রতিকার হয় না, তেমনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারও আশঙ্কা থাকে।
ভেজাল ওষুধে সয়লাব গ্রামগঞ্জ : এদিকে ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামগঞ্জসহ মফস্বলের বাজার। এর মূল কারণ পর্যাপ্ত তদারকি ও নজরদারি নেই। ভেজাল ওষুধ তৈরিকারী সংঘবদ্ধ চক্র এ ভেজাল ওষুধগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থায় প্রয়োজন একটি যুগোপযোগী ওষুধনীতি। জানা যায়, সরকারি হাসপাতালগুলোয় বিনামূল্যের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে খোলাবাজারে। ঢাকাসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর কর্মচারীরা হাসপাতালের ওষুধ ফার্মেসিতে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন এমন অভিযোগ বেশ পুরনো। অনেক সময় মফস্বলের ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধও বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে আশঙ্কার বিষয়, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া ওষুধের পেটেন্ট (স্বত্ব) অন্য দেশের। ২০১৫ সালের মধ্যে এই পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আর সে সময় রোগীদের বিদেশি আমদানিকৃত ওষুধ বর্তমান বাজারমূল্য থেকে কয়েক গুণ বেশি দামে কিনতে হবে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, নকল ওষুধ তৈরির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।